যান্ত্রিক যুগেও টিকে আছে ঐতিহ্য: গরুর লাঙ্গলই এখনো কৃষকের শেষ ভরসা!

  

লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষ করছেন কৃষক
গরু দিয়ে হাল চাষ করছেন কৃষক

বাংলাদেশের কৃষি পরিচিতি

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ  ।  দেশের প্রায় ভূমির মোট আয়তন প্রায় ১৩ লাখ হেক্টর (বা ১৩ মিলিয়ন
হেক্টর) । আবাদ যোগ্য জমি  প্রায় ৮৮ লাখ হেক্টর যা সারসরি ফসল চাষে ব্যাবহার করে থাকেন কৃষক ।
 যা দেশের মোট ভূমির প্রায় বড় অংশ।১৩ মিলিয়ন হেক্টর জমির মধ্যে ৬০ - ৭০% মত  কৃষি জমি হিসেবে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে। যা দেশের ভুমির প্রায় বড় অংশ  সরাসরি আবাদির জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে । কৃষকরা আবাদি জমি গুলোতে বিভিন্ন ফসালের চাষাবাদ করে থাকেন , যেমন -ধান, পাট, ডাল, ইত্যাদি  ফসল চাষ করে থাকেন যা আমাদের দেশকে খাদ্য স্বনির্ভর করে তুলেতে সাহায্য করে থাকে  । কিছু ফসল দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাহিরে রপ্তানিও হয়ে তা যা বাংলাদেশকে অর্থনীতিক ভাবে শক্তিশালী করে থাকে । ২০২৩- ২৪ অর্থ বছরের বিভিন্ন সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৮৮ মিলিয়ন হেক্টর জমি ধান চাষে উৎপাদিত ফসলের পরিমান ছিলো (৪.০৬ কোটি টনের (~40.6 মিলিয়ন টন) যা বাংলাদেশের সর্বচ্চো উৎপাদন বিবেচিত হয়েছে ।

আধুনিক যুগে গরু দিয়ে হাল চাষ কেনো করছেন কৃষক

জমিতে ফাসল চাষের উপোযোগী করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করে থাকে গ্রামের কৃষক ,তার মধ্যে হাল চাষ অন্যতম । বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষিতেও প্রযুক্তির ছোয়া লেগেছে , প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষক অল্প সময়ে ভারি বা বেশি কাজ সম্পাদান করতে পারেন , পাশা পাশি তাদের ফসল চাষে ব্যয় ও কম হয়ে থাকে  যাহা জন্য কৃষক পূর্বের তুলনায় বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। কৃষক তার জমি চাষ থেকে শুরু করে , ধান রোপন , ধান মারাই সব কিছুই করে থাকে কৃষি যন্ত্রদিয়ে । কৃষকরা বলেন আগের চেয়ে আমাদের ফসল চাষে খরচের পাশাপাশি সময় বেছেযায় , আমরা অহন অনেক ভালা আছি ।

কিভাবে লাঙ্গল দিয়ে  কৃষক জমি চাস করেন

আধনিক যুগেও এসেও ২০২৬ সালে দেখলাম লেবু ভাই ( কৃষক) তার আমন ধানের জমিতে গরু দিয়ে হাল চাষ করছেন । দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম , মনে পরে গেলো সেই ২০০২ থেকে ২০০৭ সালের কথা । আমি তখন প্রাইমারি স্কুলে লেখা পাড়া করি । আমি ছোট থেকেই নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করতাম । আমার নানা বাড়িতে গোয়াল ভরা গরু ও ঘোলাভরা ধান ছিলো , বাড়িতে ২ একটি কামের লোকও থাকতো যারা জমি ও গরু দেখাশোনার কাজ করতেন । আমার নানা ধান, পাট, মরিচ , বেগুন ইত্যাদি ফসলের চাষ করতেন । তখন কার সময়ে কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহার এতোটও ছিলো না । তুখন জমিনে পানি সেচ দেওয়ার জন্য ব্যবহার হতো পায়ে চালিত পাম্প । জমি চাষ করার জন্য ব্যবহার হতো গরুর সাহায্য ।  গরু দিয়ে হাল চাষ দিতে তাতে প্রয়োজন  হয় ২টি গরু, একটি লাঙ্গল,জোয়াল ও মই । তাই তখন যারা চাষাবাদ করতেন তাদের বাড়িতে গরু সহ প্রয়োজনিয় উপকরন তাদের বাড়িতে থাকতো । আজকে লেবু ভাইরের চাষ করা দেখে , ছেলে বেলার কথা গুলো মনে পরে গেলো । কৌতুহল হয়ে লেবু ভাইকে প্রশ্ন করে বসলাম , বললাম সবাই যখন ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করছেন তুমি কেনো গরু দিয়ে আদীগযুগের মত হাল চাষ করছো ? লেবু ভাই বললো , ট্রাক্টর আসবে না তাই গরু দিয়া চাষ করলাম । আমি বললাম ট্রক্টর ওয়ালার সাথে কি তোমার কোনো শ্রত্রুতা আছে নাকি ? হেসে উত্তর দিলো না শত্রুতা নাই, এই জমিতে জালা ফালাই সিলাম তার জন্য জালা তুলে গারতে দেরি হয়ছে তার জন্য , সবাই ধান গারসে তাই আর ট্রাক্টর আসার রাস্তা নাই তাই লাঙ্গল দিয়া চাষ করলাম । যদি লাঙ্গল  দিয়া যদি চাষ না করতাম আমার জমি খালি থাকতো । আমি বললাম এখনো কি গরু দিয়ে হাল কারার ‍ উপকরন গুলো এখনো আছে ? লেবু ভাই বললো হ্যা , আমার সব আছে , কি কি লাগে ? গরু, লাঙ্গল, জোয়াল । 
২০২৬ সালে আমাদের অঞ্চলে গরু দিয়ে হাল চাষ হবে সেটা আমার দেখার সৌবাগ্য হবে কখনো ভাবিনী । তাই বলে কি গরু দিয়ে বাংলাদেশে হাল চাষ হয়না   হ্যা হয়  প্রতত্ন অঞ্চলে সিমান্তবর্তী একায় এখনো তারা তাদের আবাদি জমি চাষ করে থাকেন গরু মহিষ দিয়ে । ধন্যবাদ আপানাকের আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার লেখাটা পড়লেন । 

রিলেটেড কিওয়ার্ড: হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলা,বাংলার ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদ,কৃষকের শেষ ভরসা,গরু দিয়ে হাল চাষ,লাঙ্গল ও জোয়াল,গ্রামবাংলার কৃষি জীবন, গ্রামের কৃষকের খবর


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন